গত ২৫ বছরে সাত ধাপ অতিক্রম করে জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। এর ওপরে রয়েছে কেবল জাকার্তা। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রস্পেক্টস ২০২৫ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—আগামী ২৫ বছরের মধ্যে জাকার্তাকেও পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরে পরিণত হতে পারে ঢাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরায়ণের এই অপ্রতিহত গতি বাংলাদেশের রাজধানীর জন্য যেমন মর্যাদার, তেমনি এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও বটে। কারণ বর্তমানেই যেখানে ঢাকা অবকাঠামো, পরিবহন, পরিবেশ ও সেবা সংকটে নাজেহাল, সেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নগরে পরিণত হলে চাপ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তাই সংকট এড়াতে হলে এখনই প্রয়োজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী নগরশাসন।
তাঁরা আরও বলছেন—
- পরিকল্পিত নগর বিস্তার ছাড়া ঢাকার বর্তমান অবস্থা আরও জটিল হবে। এলোমেলো বাসস্থান, অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ও সড়ক দখল পরিস্থিতিকে অচল করে দিতে পারে।
- পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন আনতে হবে এখনই। গণপরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মেট্রোরেল–বিআরটি নেটওয়ার্ক বিস্তৃত না করলে সময়ের সঙ্গে শহর অচল হয়ে পড়বে।
- সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষা করতে না পারলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, দূষণ, জলাবদ্ধতা ও বায়ুর মানের অবনতি রাজধানীকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলতে পারে।
- বিকল্প শহর ও অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার মাধ্যমে জনঘনত্ব কমানো জরুরি। সব কর্মসংস্থান ও সেবা ঢাকাকেন্দ্রিক হলে চাপ কখনোই কমবে না।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়োজন একটি সমন্বিত নগর সরকার—যে প্রতিষ্ঠান এককভাবে সড়ক, পানি, বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ, পরিবেশ ও পরিকল্পনা পরিচালনা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত—ঢাকা যদি আজই দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে, তবে বিশ্বের শীর্ষ নগরীতে পরিণত হওয়া কোনো সংকট নয়; বরং তা দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।


