
জামাল উদ্দিন জাহেদ
বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজের দীর্ঘদিনের একটি সংকট, যার শিকড় প্রোথিত আছে দারিদ্র্য, কুসংস্কার, অশিক্ষা ও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে। যুগ বদলেছে, উন্নয়ন এগিয়েছে, কিন্তু আজও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের নাম করে নিষ্ঠুর অন্যায্যতার শিকার হতে হয়। এ যেন এক নীরব মহামারি, যার ক্ষত দীর্ঘস্থায়ী এবং পরবর্তী প্রজন্মেও প্রভাব ফেলে।
প্রথমত, বাল্যবিবাহ শিশুদের শৈশব ও স্বপ্নকে নির্মমভাবে হত্যা করে। যে বয়সে একটি মেয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, খেলা ও শেখার কথা, সে বয়সেই তাকে সংসারের বোঝা বইতে হয়। এতে শুধু তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয় না, বাড়ে গর্ভধারণের ঝুঁকি, স্বাস্থ্য জটিলতা ও শিক্ষার অকাল সমাপ্তি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক মায়ের মৃত্যুঝুঁকি পূর্ণবয়স্ক নারীর তুলনায় বহুগুণ বেশি—যা এই সমস্যার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
দ্বিতীয়ত, বাল্যবিবাহ সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নকে পিছিয়ে দেয়। একটি মেয়ের শিক্ষা বন্ধ মানে শুধু একজন মানুষ নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ ও পুরো দেশের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করা। শিক্ষিত নারী একটি দেশের শক্তি; আর অশিক্ষিত, অবহেলিত নারী—সমাজের অগ্রগতির বড় বাধা।
তৃতীয়ত, পরিবার ও সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। আইন আছে, শাস্তি আছে, কিন্তু সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এই নির্মম চক্র থামানো সম্ভব নয়। অভিভাবকদের বুঝতে হবে—মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দেওয়া নিরাপত্তা বা সম্মানের সমাধান নয়; বরং এটি একটি নতুন বিপদের দরজা খুলে দেয়। একই সঙ্গে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল–কলেজ, ধর্মীয় নেতাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
সবশেষে বলতে হয়—বাল্যবিবাহ একটি অপরাধ, একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত। প্রতিটি মেয়েকে পড়ার সুযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং নিরাপদ শৈশব দেওয়া—এ শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, আমাদের সবার নৈতিক দায়বদ্ধতা।
সমাজকে বদলাতে হলে প্রথমে বদলাতে হবে মানসিকতা।
আর একটি শিশুকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করা মানেই—একটি ভবিষ্যৎকে বাঁচিয়ে দে


