
বাঙালির হাজার বছরের লোকশিল্প, লোকসাহিত্য, লোকগাঁথা, যাবতীয় লোকাচার ও সার্বিক লোকায়ত ভাব-ভাবনার বিষয়াদিকে উপজীব্য করে ‘লোক উৎসব-২০২৬’-এর গৃহীত কর্মসূচি ৩০ জুলাই বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। কর্মসূচিতে ছিল বর্ণাঢ্য উদ্বোধন, লোকসংগীত পরিবেশন, ফোক মোটিফের ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, লোকনৃত্য, পুথিপাঠ, গাজী কালুর গীত, বাইশ কবির মনসামঙ্গল পাঠ, লোকবিষয়ক ছড়া-কবিতা আবৃত্তি প্রভৃতি। শ্রাবণের বর্ষণমুখর দিনে লোকবিষয়ক গুণীজনদের উপস্থিতি ও শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বস্ত্র নকশাশিল্পী ও সন্দীপনার কেন্দ্রীয় সভাপতি রওশন আরা চৌধুরী। উৎসব আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক খ্যাতিমান ভাস্কর ডি. কে. দাশ মামুন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কথামালা ও বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, সাবেক উপাচার্য, কক্সবাজার বিশ্ববিদ্যালয়; অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, সাবেক উপাচার্য, ইউএসটিসি; অধ্যক্ষ সচ্চিতানন্দ রায়; আবু তাহের মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যাংকার; অধ্যক্ষ শামসুদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার সরকারি কলেজ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য গবেষক ডা. আ আ মুক্তাদির, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়া, সাংবাদিক মুকুল শিকদার, অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক টিপু সুলতান, কবিয়াল আব্দুল লতিফ, সাংবাদিক কাঞ্চন মহাজন, কবি দিলীপ কুমার দাশ, বিশিষ্ট শ্রমিক সংগঠক কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, ডা. ডি. কে. ঘোষ, সাহিত্যিক অধ্যাপক মহি মোহাম্মদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মোহাম্মদ হোসেন, অধ্যাপক অজিত কান্তি দাশ, কবিয়াল হরিপদ দেয়ারী, কবিয়াল সন্তোষ কুমার দে, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী, নাট্যকর্মী মেজবাহ চৌধুরী, শিল্পী সমীর চন্দ্র সেন, জাহানারা পারুল, কবিয়াল নির্মল শীল, সংগঠক প্রণব রাজ বড়ুয়া, কবিয়াল পণ্ডিত অরুণ কান্তি নাথ, শিল্পী মুসলিম আলী জনি, ডা. শিউলি চৌধুরী, অধ্যাপক আখেরুন নেসা দিনা, শিল্পী বৃষ্টি দাশ, শিল্পী পম্পী দাশ, শিল্পী বিথী সিংহ, খন্দকার হাসান আরাফাত, আশীষ কান্তি মুহুরী, টুবেল নন্দী, নয়ন মনি, মিলন কান্তি রুদ্র, হিমু, আব্দুল ওয়াহেদ, মর্জিনা আক্তার, গীতা রানী সিংহ, অসিত কুমার রক্ষিত, মো. ইসমাইল, অঞ্চল চৌধুরী, কে. কে. বাবুল প্রমুখ। নাট্যকর্মী মেজবাহ চৌধুরী ও অধ্যাপক নাজজেদা নাহার ত্বরার সঞ্চালনায় শিল্পী, কবি, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্টজনেরা বলেন, বাংলা লোকশিল্প ও লোকসাহিত্য বাঙালির কাছে প্রবহমান সুপেয় নদীর জলস্রোতের ন্যায়। হাজার বছরের বাঙালির কৃষ্টি-সংস্কৃতি আজ পরদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে কোনঠাসা হতে চলেছে। এ ঐতিহ্য তরক্ষায় প্রয়োজন নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং নিবিড় চর্চা। আয়োজনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে একটি লোকশিল্প ও লোকসাহিত্য গবেষণা কেন্দ্র এবং লোকজ জাদুঘর (মিউজিয়াম) প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

