
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভুয়া পরিচয়ে সাংবাদিক সেজে দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
“বাঁশখালী নিউজ সংবাদ” নামের একটি ফেসবুক আইডি ঘুরে দেখলেই চোখে পড়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের প্রেস কার্ডের নকল ডিজাইন, নিজের ছবি, মোবাইল নম্বর ও ব্লাড গ্রুপ বসিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ের প্রচেষ্টা। অথচ সাংবাদিকতা কী, সম্পাদক কাকে বলে— সেই মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণাই নেই তার।
স্থানীয়রা জানান, ওই আইডি থেকেই তিনি নিজেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ‘কৃত্রিম প্রভাব’ দেখানোর চেষ্টা করেন। তার ফেসবুক আইডিতে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বিভিন্ন নামী-দামি পত্রিকার প্রেস কার্ডের আদলে নকল কার্ড তৈরি করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিব্রত হচ্ছেন প্রকৃত সাংবাদিকরাও।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আমির হোসেনের বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার লস্করপাড়া এলাকায়। তিনি মাত্র ৮ম শ্রেণি পাস করলেও নিজেকে “সাংবাদিক” পরিচয় দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,মাইক ধরলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না। এভাবে ভুয়া পরিচয়ে ঘোরাফেরা করলে পুরো পেশাটির মান ক্ষুণ্ন হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি আনসার ভিডিপিতে চাকরি করেন । সময় সুযোগ পেলেই বিভিন্ন স্থানে হাজির হয়ে ‘প্রেস’ পরিচয় দেখিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও করা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বাঁশখালীতে কর্মরত প্রকৃত কয়েকজন সাংবাদিক জানান, এ ধরনের ভুয়া পরিচয়ধারীরা সাংবাদিকতার মান ক্ষুণ্ন করছে এবং নানা বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তাও পৌঁছাচ্ছে।
তাদের ভাষায়—নিজেকে সাংবাদিক বলা খুব সহজ, কিন্তু সাংবাদিকতার নৈতিকতা, পেশাগত দায়িত্ব ও আইন জানাটা জরুরি। ভুয়া প্রেস কার্ড ব্যবহার করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ।
সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের ভুয়া পরিচয়ধারীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত সাংবাদিকরা স্বাচ্ছন্দ্যে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।


