
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ এর নির্দেশে পরিচালিত একাধিক সাড়াশি অভিযানে বন্ধ হয়েছে বেল্লাপাড়া ও ফিরিঙ্গিবাজারের অবৈধ বালুর সাইট। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাদাকালো মাল্টিমিডিয়া হাউজের ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন কর্তৃক এই বালুর সাইটগুলো বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। জানা গেছে- চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার বেল্লাপাড়া সেতু সংলগ্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত-দিন সমানভাবে এখানে বালু বিক্রি চলত। পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, এই এলাকার সব বালু সেলস বন্ধ করতে হবে। কর্ণফুলী থানার বেল্লাপাড়া সেতু সহ চান্দগাঁও, কালুরঘাট, বলির হাট, বাকোলিয়া নতুন ব্রীজ, কোতোয়য়লী ফিরিঙ্গি বাজার, সদরঘাট থানার মাঝির ঘাট ও পতেঙ্গা সব বালু সেলস সেন্টার বন্ধ করা হবে। পরবর্তীতে যাতে এই বালুর চক্রের গডফাদারগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে তারও নির্দেশও দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।
গোয়েন্দা ও স্থানীয় অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, বেল্লাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসা সিন্ডিকেটের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণে, যার আড়ালে রয়েছে মোটা অংকের চাঁদাবাজি, স্থানীয়দের ওপর আতঙ্ক সৃষ্টি, এবং বড় ধরনের অপরাধের ছায়া। তথ্য মতে, এই বালু মহল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যেই প্রায় সব বড় অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আফতাব উদ্দিন ইতিমধ্যে জোরালো অভিযান চালিয়ে তার এলাকায় সব সেলস বন্ধ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব সেলস পরিচালনা করছে সংবদ্ধ আতঙ্কসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক পরিচয়দানকৃত সিন্ডিকেট।
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কর্ণফুলী নদীর পশ্চিমে: মহিউদ্দিন বকুল এর ১টি সাইট, জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান – নতুন ব্রিজের নিচে দক্ষিণ পাশে শিকলবাহা ২টি সাইট, বড়ুয়া ও অজ্ঞাত জনের ১টি সাইট।
নদীর পূর্ব পাশে নাজিম (এনডিসি) ও শফিক চেয়ারম্যান এর ১টি সম্মিলিত সাইট, ববি, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম ও রেজাউল করিমের আত্মীয় – ১টি, ববি ও শফিক চেয়ারম্যান এর ১টি সম্মিলিত সাইট, মো: আলি – ১টি সাইট, শাখওয়াত – ১টি সাইট, পাশাপাশি অজ্ঞাত ৪টি সাইট, অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাইট: রাস্তার উত্তরে ৩টি সাইট, নদীর পাশে নাম অজানা কালুরঘাট মিলিটারি পোল সংলগ্ন ২টি সাইটও সিন্ডিকেটের কৌশল ও প্রভাব।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বেল্লাপাড়া এবং আশপাশের বালু সিন্ডিকেটরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই সিন্ডিকেটগুলো শুধু অর্থ উপার্জন করছে না, বরং এলাকায় অপরাধ ও হত্যাকান্ডের শৃঙ্খল দৃঢ় করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের আধিপত্য থাকায় বালু বিক্রি রাত-দিন সমানভাবে চলমান, যা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


